রংপুর অঞ্চলে আউশ আবাদে দুই দশকের রেকর্ড

প্রকাশিত: ৪:৪৬ অপরাহ্ণ, জুন ২৭, ২০২০

চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ জমিতে আউশ ধানের আবাদ করা হয়েছে। আ্মউশ আবাদকৃত মোট জমির পরমিাণ ৬৩ হাজার ৬৯০ হেক্টর। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এতথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই অঞ্চলে এবার ৫৯ হাজার ৬৭৫ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তার থেকে ৪ হাজার ১৫ হেক্টর বেশি জমিতে চাষ হয়েছে।

“২০০০-০১ মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে আউশ আবাদ হয়েছিল ২৫ হাজার ৭৩৪ হেক্টর জমিতে। এর পরের বছরগুলোতে ক্রমাগতভাবে আবাদের এলাকা কমতে থাকে। ২০০৯-১০ সালে সব থেকে কম ১২ হাজার ৯৩৮ হেক্টর জমিতে আউশ আবাদ হয়।”

সরকার বলছে, আউশ আবাদের এলাকা বাড়ার পাশাপাশি হেক্টরপ্রতি গড় ফলনও বেড়েছে। ২০১৭-১৮ মৌসুমে হেক্টর প্রতি আউশ চাল উৎপাদন হয়েছিল ২ দশমিক ৯৮ মেট্রিক টন; ২০১৮-১৯ মৌসুমে তা বেড়ে হেক্টরপ্রতি ৩ দশমিক শূন্য ৪ মেট্রিক টনে দাঁড়ায়।

এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হেক্টর প্রতি ৩ দশমিক শূন্য ৭ মেট্রিকটন চাল উৎপাদন হলে রংপুর অঞ্চলের পাঁচ জেলা থেকে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৫২৮ মেট্রিকটন চাল উৎপাদিত হবে, যা মোট উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২ হাজার ৫৯ মেট্রিক টন বেশি।

কৃষি মন্ত্রণালয় বলছে, ভূগর্ভস্থ পানির অপচয় রোধ করে বৃষ্টির পানিকে কাজে লাগিয়ে আউশ আবাদকে জনপ্রিয় করতে সরকার নানা পরিকল্পনা নিয়ে তা বাস্তবায়ন করায় এই ধানের আবাদ বাড়ছে।

“রংপুর অঞ্চলে রবি ফসল আবাদের পরে পরবর্তী রোপা আমন আবাদের আগে মে মাস থেকে মধ্য অগাস্ট পর্যন্ত সময়ে পানি সাশ্রয়ী বৃষ্টিনির্ভর আউশ আবাদ করা যায়।”

বিগত কয়েক বছরে সরকারি প্রণোদনায় বিনামূল্যে আউশ ধানের বীজ ও সার কৃষকদের বিতরণ করা, উচ্চ ফলনশীল জাতের আউশ ধানের বীজের প্রাপ্যতা নিশ্চিত হওয়া এবং মাঠ পর্যায়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মাধ্যমে কৃষক উদ্বুদ্ধকরণ ও নিবিড় তদারকির ফলে সেচ সাশ্রয়ী আউশের আবাদে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে বলে মন্ত্রণালয় দাবি করেছে।

এছাড়া যথাসময়ে কৃষি উপকরণ বিতরণের ফলে আবাদের উপর তার প্রভাব পড়েছে এবং এতে কাঙ্খিত ফলন ও উৎপাদন পাওয়া যাচ্ছে বলেও মনে করছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, চলতি মৌসুমে সাড়ে ২২ হাজার জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের মাঝে প্রণোদনা হিসেবে প্রত্যেক কৃষককে এক বিঘা জমির জন্য ৫ কেজি উফশী জাতের আউশ বীজ, ২০ কেজি ডিএপি ও ১০ কেজি করে এমওপি সার বিতরণ করা হয়েছে।

আর ২৪ হাজার ৮০ জন কৃষককে ৫ কেজি করে বীজ সহায়তা পেয়েছেন। এছাড়া ব্রি ও বিনা থেকে ১ হাজার ৯০০ কেজি বীজ সংগ্রহ করে বিনামূল্যে ৩৮০ জন কৃষকের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জানান, এ অঞ্চলে জমির প্রায় অর্ধেক বোরো-পতিত-রোপা আমন শস্যবিন্যাসের আওতায় রয়েছে।

“এই শস্য বিন্যাসের মধ্যে আউশ উপযোগী জমিকে আউশভিত্তিক তিন ফসলী জমিতে নিয়ে আসার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর ফলে আউশের আবাদ বাড়ার সাথে সাথে এ অঞ্চলে শষ্যের নিবিড়তা বাড়বে।”