করোনাকালেও নিজেকে ফিট রাখছেন সাইফউদ্দিন

প্রকাশিত: ৮:২১ অপরাহ্ণ, জুন ১৮, ২০২০

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের কালে সব ক্রিকেটার ঘরে বন্দি হয়ে আছেন। নিজের ঘরে যতটুকু পারা যায়, ফিটনেস নিয়ে কাজ করছেন।

তবে, এক্ষেত্র্রে সাইফউদ্দিন একটু ব্যতিক্রম। তিনি শুধু ঘরে আটকে থেকে সন্তুষ্ট থাকছেন না। ফেনীতে নির্জনে কখনো মাঠে, কখনো বন্ধ জিমনেসিয়ামের দরজা খুলে চালাচ্ছেন ফিটনেস ট্রেনিং। আশা করছেন, এইভাবে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করতে পারলে ক্রিকেটের জন্য পুরো প্রস্তুত রাখতে পারবেন শরীরকে।

বিশ্বকাপের আগে থেকেই ক্রিকেট মাঠে সময়টা অম্ল-মধুর যাচ্ছে এই পেস বোলিং অলরাউন্ডারের। মাঠে নামলে দারুণ সাফল্য পাচ্ছেন। কিন্তু প্রায়ই ভোগাচ্ছিল তাকে পিঠের একটা ইনজুরি। বিশ্বকাপের পর থেকে অনেক দিন মাঠেও নামতে পারেননি। অবশেষে যখন খেলাতে ফিরলেন, তখনই করোনার জন্য স্থগিত হয়ে গেল খেলা।

এ নিয়ে খুব বেশি আফসোস করতে চান না সাইফউদ্দিন। বলছিলেন, এটা নিয়ন্ত্রণে নেই বলেই ভাবছেন না, ‘আমার ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে আবার নিজের জায়গাটা ফিরে পাওয়ার একটা চ্যালেঞ্জ ছিল। দলে তৃতীয় পেসার হিসেবে আল আমিন ভাইরা ভালো করছিলেন। আমাকে ঐ জায়গাটায় নিজেকে প্রমাণ করতে হতো। আমাদের অনেক খেলাও ছিল। কিন্তু করোনা ভাইরাসের কারণে তো সব থমকে গেল। এখন এটা তো কারো হাতে নেই। তাই এ নিয়ে দুঃখ করেও লাভ নেই। আমি যেটা পারি, সেটা হলো নিজেকে তৈরি রাখা।’

সে চেষ্টায় কমতি নেই এই অলরাউন্ডারের। করোনা সংক্রমণের শুরুর দিকেই চলে গেছেন ফেনীর বাড়িতে। সেখানে ঘরে তো টুকটাক ট্রেনিং করছেনই। বাসার বাইরেও ট্রেনিং করছেন জোরেসোরে। তিনি বলছিলেন, ‘আমার অন্য যে কোনো ক্রিকেটারের চেয়ে একটা সুবিধা হলো, আমার বাসার কাছেই একটা মাঠ আছে। হেঁটে যেতে দুই তিন মিনিট সময় লাগে। ওখানে লোকজন থাকে না। এমনিতেই অত সকালে কেউ যায় না। আর এখন তো লকডাউন অবস্থা। আমি মাঠে গিয়ে ফিজিক্যাল ট্রেনিং করি। আরেকটা সুবিধা হলো, একটা জিম আছে এখানে। বন্ধই থাকে এই সময়ের কারণে। কিন্তু আমি মালিককে বলে খুলে ট্রেনিং করি।’

অলরাউন্ডার হলেও সম্প্রতি বোলিংয়েই বেশি জোর দিচ্ছেন সাইফউদ্দিন। আর সেজন্য ফিটনেসটাকে খুব জরুরি মনে করছেন তিনি। এই অলরাউন্ডার মনে করেন, তিনি নিজেকে যেভাবে চ্যালেঞ্জ করছেন, তাতে খেলা শুরু হলে ভালো অবস্থায় থাকতে পারবেন, ‘ইনজুরির সঙ্গে অনেক ফাইট করলাম। ইনজুরি থেকে দূরে থাকার জন্য ফিট থাকা খুব জরুরি। আমি সেটা নিয়েই বেশি কাজ করছি। অল্প না, যথেষ্ট কাজ করছি। আমি নিজেকে চ্যালেঞ্জ করছি। আশা করছি, একটা ভালো অবস্থায় নিজেকে নিয়ে যেতে পারব।’