সূর্যস্নানে লুকিয়ে আছে করোনা মুক্তির উপায়

প্রকাশিত: ৫:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০২০

বারান্দায় রোদ। কিছুটা সময় হাত-পা ছড়িয়ে বসুন, করোনা পালিয়ে যাবে। অন্তত আপনার ত্রিসীমানায় ঘেঁষবে না। যদিও বা আক্রান্ত হন, সহজেই সুস্থ হবেন। এমনটাই বলছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ, ভিটামিন ডি (Vitamin D) মানবদেহে প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকটাই বাড়িয়ে দেয় শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য। অর্থাৎ করোনার যম ভিটামিন ডি।

কোভিড-১৯ ভাইরাস জীব নয়। জড়ও নয়। কিন্তু মানব শরীরে ঢুকলেই স্বমূর্তি ধারণ করে। কোষগুলি নির্বিচারে ধ্বংস করে দেয়। প্রতিরোধক্ষমতা কমে ক্রমশ মৃত্যু হয়। এই মারাত্মক শত্রুর হাত থেকে নিস্তার পেতে নতুন পথ বাতলেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়ো মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ভাদিম ব্যাকম্যান। অধ্যাপক ব্যাকম্যান ইতালি, চিন, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানির তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, যাঁদের শরীরে ভিটামিন ডি কম তাঁরাই বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন করোনা ভাইরাসে। মৃত্যুও হচ্ছে নির্বিচারে। ঠিক উলটোদিকে যাঁদের শরীরে তুলনামূলকভাবে ভিটামিন ডি বেশি, তাঁরা দিব্য সুস্থ।

ব্যাকম্যান আর তাঁর সহকর্মীদের গবেষণাপত্র প্রকাশ্যে আসার পর বিভিন্ন দেশেও এই নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু। কোভিড-১৯ ভাইরাস নিয়ে গবেষকদের মধ্যে ফের ভিটামিন ডি’র ক্ষমতা যাচাই শুরু হয়েছে। একদল গবেষকের বক্তব্য বিভিন্ন দেশের স্বাস্থ্যবিধি আলাদা। আবার ভৌগোলিক চরিত্র অনুযায়ী বয়সের তারতম্য অনুযায়ী করোনার চরিত্রের বদল হচ্ছে, এমন অবস্থায় এই সমীক্ষা কতটা সফল? প্রশ্ন তাঁদের। সমালোচকদের জন্য ব্যাকম্যানের স্পষ্ট জবাব, “এই সমীক্ষা শেষ কথা তা বলার সময় আসেনি। কারণ, স্বাস্থ্যবিধিতে উত্তর ইতালি বিশ্বসেরা। কিন্তু ওই অংশের কিছু বাসিন্দার মধ্যে ভিটামিন ডি বেশি থাকায় তাঁদের কোভিড কাবু করতেই পারেনি। আবার অন্য একটি অংশের নাগরিকদের মধ্যে ভিটামিন ডি কম থাকায় তাঁরা নির্বিচারে সংক্রমিত হয়েছেন।

ব্যাকম্যান এবং তাঁর সহকর্মীদের পর্যবেক্ষণ হল, ভিটামিন ডি’র সঙ্গে মানবদেহে সাইটোকাইন ঝড়ের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। স্কুল অফ ট্রপিক্যাল মেডিসিনের অধিকর্তা ডাঃ প্রতীপ কুণ্ডুর কথায়, “অনেকটা ভাড়াটে গুন্ডার মতো সব কোষ ধ্বংস করে এই সাইটোকাইন ঝড়। ফুসফুস, শ্বাসনালিতে তীব্র প্রদাহ হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির শ্বাসকষ্ট তীব্র হয়। রক্ত জমাট বাঁধে।” অন্যদিকে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডাঃ অরিন্দম বিশ্বাসের কথায়, যাঁদের শরীরে ভিটামিন ডি থাকে তাঁদের এই সমস্যা হয় না। তাই শিশুদের রোদে কিছুক্ষণ রাখলে সর্দি-জ্বরের সমস্যা অনেকটাই কমে। অরিন্দমবাবুর কথায়, “ভিটামিন ডি কোষের শ্লেষ্মা নষ্ট করে।”