আজ থেকে সংসদের বাজেট অধিবেশন

প্রকাশিত: ২:৪০ অপরাহ্ণ, জুন ১০, ২০২০

করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে আজ বিকাল থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের বাজেট অধিবেশন, সংক্রমণ এড়াতে নেওয়া হয়েছে বেশ কিছু ব্যবস্থা।

বিকাল ৫টায় স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হবে। বৃহস্পতিবার বিকালে ২০২০-২১ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব সংসদে উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল।

বিশেষ পরিস্থিতিতে বসতে যাওয়া এই অধিবেশনে দর্শনার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীদের সংসদ ভবনে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শারীরিকভাবে অসুস্থ এবং বয়স্ক সংসদ সদস্যদের অধিবেশনে যোগ দিতে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

অধিবেশন শুরুর দিন জনাব আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ‘আদালত কর্তৃক তথ্য-প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ -২০২০, মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) অধ্যাদেশ-২০২০ এবং ইনকাম ট্যাক্স (অ্যামেন্ডমেন্ট) অধ্যাদেশ-২০২০ সংসদে উপস্থাপন করবেন।

অ্যধাদেশ জারির পর সংসদের প্রথম বৈঠকে তা উপস্থাপনের বিধান রয়েছে। এরপর শোক প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে কার্যক্রম শেষ করা হবে।

ঢাকা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগ নেতা হাবিবুর রহমান মোল্লার মৃত্যুতে শোক প্রস্তাবের ওপর আলোচনা ও গ্রহণের পর সংসদের বৈঠক মুলতবি করা হবে।

চলমান সংসদের কোন সদস্যের মৃত্যুর পর সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর অধিবেশন মুলতবি রাখার রেওয়াজ আছে।

গণমাধ্যমকর্মীদের সংসদে না গিয়ে সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন থেকে বাজেট অধবেশনের সংবাদ সংগ্রহ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

করোনাভাইরাস সঙ্কটে স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিবেচনায় বিদেশি কূটনীতিক এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদেরও এবার বাজেট উত্থাপনের দিন সংসদে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

সংসদে যোগদানকারী সংসদ সদস্যদের স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। প্রত্যেকের মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক। এছাড়া সংসদের মূল ভবনে ঢোকার আগে ‘জীবাণুমক্তকরণ চেম্বারের’ ভেতর দিয়ে যেতে হবে সব সংসদ সদস্য এবং সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা কর্মচারীদের।

রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী- এসএসএফের সুপারিশ অনুযায়ী সংসদ অধিবেশনে কাজ করবেন এমন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোভিড-১৯ পরীক্ষা করা হয়েছে ইতোমধ্যে। তাতে ৪৩ জনের সংক্রমণ ধরা পড়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অধিবেশন কক্ষের ভেতরে স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বড় ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সাময়িকভাবে আসন বিন্যাসেও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আশপাশের বেশ কয়েকটি আসন ফাঁকা রাখা হয়েছে।

সেক্ষেত্রে সংসদের প্রধান হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরীকে আরো এক সারি পিছনে এবং প্রধানমন্ত্রীর ডান পাশের আসনের সংসদ সদস্য মতিয়া চৌধুরীসহ অন্যদের আরো কয়েক আসন দূরে বসানোর ব্যবস্থা করা হবে।

এমনিতে প্রধানমন্ত্রীর ঠিক পাশেই বসেন সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী। বয়স বিবেচনায় এবারের বাজেট অধিবেশনে তিনি যোগ দেবেন না।

আসন বিন্যাস এবং তালিকা করে সংসদ সদস্যদের উপস্থিতি ঠিক করতে প্রধান হুইপের নেতৃত্বে হুইপরা ইতোমধ্যে একদফা বৈঠক করেছেন। কোন দিন কোন কোন সদস্য অধিবেশনে যোগ দেবন, তার তালিকা তৈরির সিদ্ধান্ত হয়েছে সেই বৈঠকে।

হুইপ ইকবালুর রহিম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমরা উপস্থিতির বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছি স্বাস্থ্যবিধি মানার ওপর। এক্ষেত্রে আমরা প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ জনের উপস্থিতি সীমাবদ্ধ রাখতে চাই।”