সিলেটের কোথায় ঘুরতে যাবেন

প্রকাশিত: ৬:০১ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৩, ২০১৮

রাতারগুল

জলের মধ্যে ভেসে উঠেছে অরণ্য। তাই এটি জলারণ্য। নাম রাতারগুল। রাতারগুল সোয়াম্প ফরেস্ট। বাংলাদেশের একমাত্র জলাবন যা ‘সিলেটের সুন্দরবন’ নামে খ্যাত। নিচে পানি উপরে গাছ। নৌকা করে রাতারগুল ঘুরে বেড়ানো তো হয়ে উঠতে পারে দারুণ এক এডভেঞ্চার।

সিলেট জেলার গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর ইউনিয়নে গুয়াইন নদীর দক্ষিণে এই বনের অবস্থান। সিলেট শহর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ২৬ কিলোমিটার। রাতারগুলে জলে কোমর ডুবিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা বৃক্ষদের দেখতে পর্যটকরা ভিড় জমান ভরা বর্ষা মৌসুমে। বনময় ঘুরে বেড়ানো যায় নৌকায় চড়ে। ডিঙিতে চড়ে বনের ভিতর ঘুরতে ঘুরতে দেখতে পাবেন দেশের একমাত্র সোয়াম্প ফরেস্ট।

জলমগ্ন বলে এই বনে সাপের আবাসটাই বেশি। বানরও আছে বনে, তবে সংখ্যায় কম। তাছাড়া চোখে পড়বে সাদা বক, কানা বক, মাছরাঙ্গা, টিয়া, বুলবুলি, পানকৌড়ি, ঢুপি, ঘুঘু, চিলসহ নানা জাতের পাখি।

রাতারগুল যেতে পারেন দু’দিক দিয়ে। সিলেটের ওসমানী বিমানবন্দরের পেছন থেকে একটা বাইপাস রোড ফতেহপুর হয়ে হরিপুরে গিয়ে মিশেছে। এদিকেও যেতে পারেন। অথবা জাফলং রোডেও যেতে পারেন। তবে যেতে হবে সিলেট থেকেই। যাত্রার জন্য সিএনজি চালিত অটোরিকশাই সবচেয়ে ভালো যানবাহন। নগরীর আম্বরখানা থেকে জনপ্রতি ভাড়া পড়বে ৮০ টাকা। এছাড়া অন্য গাড়ি রিজার্ভ নিতে পারেন। সেক্ষেত্রে ভাড়া গুনতে হবে একটু বেশি।

আম্বরখানা থেকে চল্লিশ মিনিট পথ যাওয়ার পর পৌঁছে যাবেন গোয়াইন নদীর তীরে। এখানে নেমেই ড্রাইভারের মোবাইল নাম্বার নিয়ে নিন (ফিরে এসে যেন খুঁজে পেতে সমস্যা না হয়)। তারপর চলে যান সোজা নদীর ঘাট। সেখান থেকে নিতে হবে নৌকা। প্রতি নৌকায় উঠতে পারবেন ৪/৫ জন যাত্রী, আর খরচ পরবে নৌকাপ্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে। নৌকা আপনাকে নিয়ে যাবে জলাবনের গহীনে। আর সেখানে আপনার জন্যে অপেক্ষমাণ অবারিত অদ্ভুত এক বন, যা হয়তো আপনি এতদিন কেবল ‘অ্যামাজন’ নিয়ে তৈরি সিনেমাতেই দেখেছেন!

এইদিনের মধ্যে কয়েকটি স্পট ঘুরতে হলে বেশি সময় উপভোগ করতে পারবেন না রাতারগুলে। বেলা ১১টার মধ্যেই রাতারগুলের মায়া কাটিয়ে ছুটে যান বিছানাকান্দির উদ্দেশ্যে। রাতারগুল থেকে ২ ঘণ্টা দূরত্বের হাদারপাড় বাজারে গিয়ে উঠতে হবে নৌকায়। প্রায় ৩০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাবেন মূল স্পটে।

Ref- www.sylhettoday24.