২৭ ক্যাটাগরির ১২৩টি সেবা পাবেন বিনিয়োগকারীরা

অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগকারীদের জন্য আগামী ৩১ ডিসেম্বর থেকে ওয়ান স্টপ সার্ভিস (ওএসএস) চালুর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)। সংস্থাটি প্রাথমিকভাবে এ প্রক্রিয়ায় ১১টি সেবা প্রদান শুরু করেছে। আগামী মাসের মধ্যে আরো তিনটি সেবা প্রদান কার্যক্রম শুরু হবে। এসব সেবা দিতে শিগগিরই বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরের সঙ্গে চুক্তি করবে বেজা। পরবর্তী সময়ে ধাপে ধাপে সব সেবা চালু হলে বেজার ওএসএস কেন্দ্র থেকে বিনিয়োগকারীরা ২৭ ক্যাটাগরিতে মোট ১২৩টি সেবা পাবেন।

গতকাল রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে এক সেমিনারে এসব কথা বলেন বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী। ‘অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোয় বিনিয়োগকারীদের জন্য ওয়ান স্টপ সার্ভিস’ শীর্ষক এ সেমিনারে অর্থনৈতিক অঞ্চলের ওএসএস কেন্দ্রের সেবা সম্পর্কে ধারণা দেয়া হয়।

বিনিয়োগকারীদের ওএসএস সেবা দিতে বেজা ২০১৫ সালে আইন করার উদ্যোগ নেয়। চলতি বছর আইন পাস হয়। আইনের আলোকে সম্প্রতি ওএসএস বিধিমালা জারি করা হয়েছে। এ সেবা চালু করতে কারিগরি সহযোগিতা দিচ্ছে জাইকা। সংস্থাটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফটওয়্যার তৈরি ও ওএসএস কেন্দ্র স্থাপনে কাজ করছে।

বর্তমানে ভূমির ইজারা, প্রকল্প ক্লিয়ারেন্স, ভিসা রিকমেন্ডেশন, কাজের অনুমতি, আমদানির অনুমতি, রফতানির অনুমতি, ভিসা সহযোগিতা, স্থানীয় ক্রয় ও বিক্রয়, নমুনা আমদানি ও রফতানি— এ ১১টি ওয়ান স্টপ সার্ভিস দিচ্ছে বেজা। সংস্থাটি চলতি বছর পরীক্ষামূলক ওএসএস কেন্দ্র থেকে ৩১টি প্রকল্প ক্লিয়ারেন্স, ১৭৬টি আমদানি অনুমতি, ৪৬৯টি রফতানি অনুমতি, ১১৩টি ভিসা সহযোগিতা ও তিনটি কাজের অনুমতি প্রদান করেছে।

গতকালের সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি-বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক মো. আবুল কালাম আজাদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালুর মাধ্যমে আগামীতে বিনিয়োগকারীদের জন্য বেজার সব ধরনের সেবার দ্বার উন্মোচন হবে। আধুনিক ও গতিশীলতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীকে সর্বোচ্চ সেবা দেবে বেজা।

বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বলেন, বিনিয়োগকারীদের সেবা দিতে আইন পাস হওয়ার আগেই বিশেষ ডেস্ক চালুর মাধ্যমে ওএসএস কার্যক্রম শুরু করেছে বেজা। এখন বেজা ১১টি সেবা দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, ওএসএস সেবা শতভাগ দুর্নীতিমুক্ত হতে হবে। তা না হলে প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব নয়। বেজা এ বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে।

পবন চৌধুরী বলেন, ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের যে চিত্র তুলে ধরা হয়েছে, তা বেজার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। কারণ এখানে সর্বোচ্চ সাতদিনের মধ্যে সব ধরনের সেবা দেয়া হয়। বিনিয়োগকারীরা স্বচ্ছভাবে আবেদন করলে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের মধ্যে জমি পেয়ে থাকেন, যেখানে অন্যান্য ক্ষেত্রে ৪৭০ দিন সময় লাগে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব শুভাশীষ বসু বলেন, বেজার সব কাজের মধ্যে সেরা কাজ হবে ওএসএস। এর মাধ্যমে বিশ্বব্যাংকের ব্যবসা সহজীকরণ সূচকে বাংলাদেশের অবস্থানের ইতিবাচক পরিবর্তন হবে ও দেশে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে। বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলের (বেপজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে বেজা ও বেপজা নিরলসভাবে কাজ করছে। ওএসএস চালু হলে বাংলাদেশ বিনিয়োগের আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত হবে।

জাইকার সিনিয়র প্রতিনিধি ইয়োসিবুমি বিতো বলেন, প্রথমে ওএসএস সেবা শুধু জাপানের বিনিয়োগকারীদের জন্য চিন্তা করা হলেও পরে তা সব বিনিয়োগকারীর জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এক্ষেত্রে বেজা বড় ভূমিকা রেখেছে।

অনুষ্ঠানে জেট্রোর প্রতিনিধি ডেইসুক আরাই, জাপান বাংলাদেশ চেম্বারের সাবেক সভাপতি সালাহউদ্দিন কাশেম খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Ref- http://bonikbarta.net

Add your comment

Your email address will not be published.