সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকরা নিরাপদে টেকনাফ ফিরল 1

সেন্টমার্টিনে আটকেপড়া পর্যটকরা নিরাপদে টেকনাফ ফিরল

বৈরি আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেতের নির্দেশনার মধ্যেও কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন দ্বীপে আটকাপড়া পর্যটকদের নিরাপদে টেকনাফে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৭টায় আটকেপড়া দুই হাজারের অধিক পর্যটক টেকনাফ জেটিঘাটে এসে পৌঁছায় বলে জানান কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয়।

তবে আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলায় আতঙ্কের কারণে কিছু সংখ্যক পর্যটক এখনো সেন্টমার্টিন অবস্থান করছেন বলেও জানান তিনি।

সোমবার সকালে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বৈরি আবহাওয়ার কারণে কক্সবাজারে ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি এবং মাঝারি আকারের বৃষ্টিপাত হয়। এতে লবণ মাঠ ও পানের বরজসহ মৌসুমি ফসলি ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। উপড়ে যায় বেশকিছু কাঁচা ঘর ও স্থাপনা।

এ নিয়ে সোমবার সকালে বৈরি আবহাওয়ার কারণে টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলাচলকারী পর্যটকবাহী জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়নি। এতে রোববার রাত পর্যন্ত দ্বীপটিতে রাত্রিযাপনের জন্য অবস্থানকরা অন্তত দুই হাজারের বেশি পর্যটক আটকা পড়েছিলেন।

জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ায় পর্যটকবাহী জাহাজগুলো চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই টেকনাফ-সেন্টমার্টিন নৌরুটে চলাচলকারী ছয়টি জাহাজ টেকনাফ স্থলবন্দরের জেটিঘাট থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়।

‘‘তবে মঙ্গলবার জাহাজগুলোতে করে কোনো পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণে যায়নি। মূলতঃ আটকাপড়া পর্যটকদের ফিরিয়ে আনতেই জাহাজগুলো সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা দেয়।’’

আটকাপড়া পর্যটকদের নিয়ে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার মধ্যে জাহাজগুলো টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা টেকনাফ জেটিঘাটে এসে পৌঁছায়।

জয় আরো বলেন, ‘‘মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়ার পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকার কারণে পর্যটকবাহী জাহাজগুলোকে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্ত দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলায় জাহাজগুলোকে আটকাপড়া পর্যটকদের নিয়ে দ্রুত সেন্টমার্টিন ছেড়ে আসার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়।’’

সেন্টমার্টিন ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ বলেন, সোমবার বৈরি আবহাওয়ার কারণে কোনো জাহাজ না আসায় সেন্টমার্টিনে দুই সহস্রাধিক পর্যটক আটকা পড়েছিল। মঙ্গলবার সকালে জাহাজগুলোচলাচল শুরু করে।

‘‘বিকেল সাড়ে ৪টায় আটকাপড়া এসব পর্যটকদের নিয়ে ছয়টি জাহাজ সেন্টমার্টিন ছেড়ে যায়। এতে প্রায় সব পর্যটকই জাহাজগুলোতে করে টেকনাফের উদ্দেশে রওনা দেয়।’’

কিন্তু দুপুরে আবহাওয়া অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ সমুদ্র উপকূলে সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলায় দ্বীপটিতে এখনো শতাধিক পর্যটক অবস্থান করছে বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান নুর আহমদ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর কক্সবাজার আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারী আবহাওয়াবিদ ড. মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ বলেন, বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র উপকূলে মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে বজ্রঘন মেঘের সৃষ্টি হয়েছে। এতে কক্সবাজারসহ বঙ্গোপসাগরের অন্য সমুদ্র উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়াসহ বজ্রপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

এ আবহাওয়াবিদ বলেন, ঝড়ো হাওয়া ও বজ্রপাতের সঙ্গে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঝড়ো হাওয়ার সময় বাতাসের গতিবেগ ঘণ্টায় ৩০ কিলোমিটারের বেশি এবং সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে বইতে পারে।

‘‘এ কারণে কক্সবাজারসহ বঙ্গোপসাগরের অন্য সমুদ্র উপকূলে ৩ নম্বর সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়। সেই উপকূলের নৌযানগুলো নিরাপদে অবস্থান নিয়ে চলাচলের জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’’

পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত এ সতর্কতা সংকেত মেনে নৌযানগুলোকে সাবধানে চলাচলের করতে নির্দেশের কথাও জানান আবহাওয়াবিদ ড. শহীদুল্লাহ।

 

সুত্র : রাইজিংবিডি

Add your comment

Your email address will not be published.