শেখ মুজিবুর রহমানের 'বঙ্গবন্ধু' উপাধি লাভের ৫০ বছর আজ 1

শেখ মুজিবুর রহমানের ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধি লাভের ৫০ বছর আজ

টুঙ্গীপাড়ার খোকা থেকে শেখ মুজিব, আর শেখ মুজিব থেকে বঙ্গবন্ধু হয়ে ওঠার ৫০ বছর আজ। ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে ছাত্র-জনতার বিশাল সভায় জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমানকে দেয়া ‘বঙ্গবন্ধু’ উপধির ৫০ বছর পূর্তি। একটি শোষিত, বঞ্চিত জাতিকে মুক্ত করে স্বাধীনতার স্বাদ দিতে যে নেতা মৃত্যুকে বারবার তুচ্ছ জ্ঞান করেছেন, তাকে বঙ্গবন্ধু উপাধিতে আপন করে নিয়েছিলো গোটা বাঙালি জাতি। দিনটি স্মরণে রাষ্ট্রীয়ভাবে ডাকটিকিট প্রকাশ ছাড়াও আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে দুই দিনের কর্মসূচি।

ছাত্রজীবন থেকেই মাটি আর মানুষের জন্য নিবেদিত ছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়ার ভাগীরথি তীরের দুরন্ত কিশোর খোকা। কর্মজীবী বাবা শেখ লুৎফর রহমান ও গৃহিনী মা সায়েরা খাতুনের আদরের এই সন্তান শেখ মুজিবুর রহমান সময়ের পরিক্রমায় হয়ে ওঠেন কোটি বাঙালির প্রিয় মুজিব ভাই।

৪৭-এর ভারত ভাগের পর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী, শের-ই বাংলা একে ফজলুল হকসহ বরেণ্য সব নেতাদের সান্নিধ্যে শেখ মুজিব ছাত্র নেতা থেকে হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর রাজনীতিবীদ। প্রথমে ছাত্রলীগ ও পরে আওয়ামী লীগ, দূরদর্শী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের সাংগঠনিক ভিত্তি গড়েন তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। বপন করেন বাঙালীর মুক্তির স্বপ্নবীজ। যার সমগ্র জীবন কেটেছে লড়াই-সংগ্রামে। বাঙালির শোষণ মুক্তির এই স্বপ্নদ্রষ্টা অধিকার, আর দাবিদাওয়া আদায়ের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়ে গিয়ে শাসকদের রোষানলে পড়েছেন, কারাগারেই কাটিয়েছেন প্রায় ১৪ বছর।

দীর্ঘ এই সংগ্রামী জীবনে ৭ই মার্চের কালজয়ী ভাষণ যেমন আছে তেমনি আছে ইতিহাসখ্যাত আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলার মত ঘটনাও। যে মামলায় কারাগারে নেয়া হয়েছিলো শেখ মুজিবকে। প্রতিবাদে ন্যায় আর ন্যায্যতার পক্ষে গর্জে ওঠেছিলো পুরো বাংলা। শেখ মুজিবের মুক্তির দাবিতে রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শ্রমিক, কৃষক, সর্বস্তরের জনতা মে এসেছিলো রাজপথে। শেষ পর্যন্ত তাঁর মুক্তির দাবিতে গণআন্দোলন রূপ নেয় গণঅভ্যুত্থানে। পাকিস্তানি জান্তার শৃঙ্খল থেকে মুক্তি পান বাঙালির আবেগ, আকাঙ্খা আর মুক্তির সংগ্রামকে এক সুতোয় গাঁথা নেতা শেখ মুজিবুর রহমান।

শেখ মুজিবের হাতে গড়া সংগঠন ছাত্রলীগের মধ্যসারির এক নেতা ১৯৬৮ সালে প্রিয় নেতাকে ’বঙ্গবন্ধু’ উপাধি দেবার চিন্তা প্রথম লিখিত আকারে প্রকাশ করেন। পরে আগড়তলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে সদ্যমুক্ত শেখ মুজিবুর রহমানকে আজ থেকে ঠিক ৫০ বছর আগে ১৯৬৯ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে আয়োজিত বিশাল জনসভায় গণসম্বর্ধনা দেওয়া হয়। সেই সভায় ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে সভার সভাপতি তোফায়েল আহমদ শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেন।

শেখ মুজিবকে দেয়া এই উপাধি একসময় তাঁর মূল নামকে ছাড়িয়ে যায়। হয়ে ওঠেন সবার প্রিয় বঙ্গবন্ধু। স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় ভাবে নানান ঐতিহাসিক দলিলেও নামের সাথে স্থায়ীভাবে লিপিবদ্ধ করা হয় উপাধিটি। ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার এই উপাধি অর্জনের সুবর্নজয়ন্তিতে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশের পাশাপাশি দুই দিনের কর্মসূচি পালন করছে জাতির জনকের নিজ হাতে গড়া সংগঠন আওয়ামী লীগ।

সুত্র : কালের কণ্ঠ

Add your comment

Your email address will not be published.