বান্দরবানে কোন স্পটে কিভাবে যাবেন

এক পলকে বান্দরবানে ট্যরিস্ট স্পটগুলোর নাম, যাতায়াত ব্যবস্থা

এবং কোনটাতে কিভাবে যাবেন তার বর্ণনা (খরচ ও সময় সহ);
সেই সাথে ২/৩ দিনের কিছু ট্যুর প্ল্যান

১। নীলগিরি (Nilgiri)
২। রামজাদি মন্দির (Ramjadi Temple)
৩। মেঘলা (Meghla)
৪। শৈল প্রপাত (Shoilo Falls)

৫। নীলাচল (Nilachol)
৬। মিলনছড়ি (Milonchori)
৭। চিম্বুক (Chimbuk Hill)
৮। প্রান্তিক লেক (Prantik Lake)
৯। তাজিলডং (Tajindong Hill)
১০। কেওক্রাডং (Keokaradang Hill)
১১। জাদিপাই ঝরণা (Jadipai Falls)
১২। বগালেক (Boga Lake)
১৩। মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স (Mirinja Tourist Complex)
১৪। সাঙ্গু নদী (Sangu River)
১৫। ঋজুক জলপ্রপাত (Rujuk Falls)
১৬। নাফাখুম জলপ্রপাত (Nafakhum Falls)
১৭। আমিয়াকুম (Amiakum)
১৮। সাতভাইকুম (Satvaikum)
১৯ । তিনাপ সাইতার
২০ । লুং ফের ভা সাইতার

এছাড়া বান্দরবানে কয়েকটি ঝিরি রয়েছে। যেমনঃ চিংড়ি ঝিরি, পাতাং ঝিরি, রুমানাপাড়া ঝিরি।

উল্লেখিত জায়গাগুলোর মধ্যে প্রথম ৭ টি বান্দরবান শহরের আশেপাশেই অর্থাৎ ফ্যামিলি নিয়ে সহজেই ঘুরে আসা যাবে, গাইডের দরকার হয়না । বাকি গুলো ট্রেকিং করে, নৌকায় চড়ে, ভেলা বানিয়ে যেতে হবে, যা সাধারণত এডভ্যাঞ্চার প্রিয় ট্রাভেলারদের জন্যে উপযোগী । তবে বগালেক ও নাফাকুম-ও ফ্যামিলি নিয়ে ঘুরে আসা যায়, কিন্তু সবাই যেতে আগ্রহী হয়না; সময়-ও বেশি লাগে । প্রান্তিক লেক বান্দরবান যাওয়ার পথে পড়ে, কেরানীহাট থেকে কাছেই, হলুদিয়া ।

<> <> যাতায়াতঃ

ঢাকা থেকে ট্রেনে বা বাসে প্রথমে চট্টগ্রাম তারপর চট্টগ্রাম থেকে সোজা বান্দরবান; অথবা ডাইরেক্ট বান্দরবান যাওয়া যায়।

>> ঢাকা থেকে বান্দরবান সরাসরিঃ
ঢাকা থেকে বান্দরবান পযর্ন্ত ডাইরেক্ট নন এসি ভাড়া জনপ্রতিঃ ৬২০ টাকা। এসি ৯৫০ টাকা

শ্যামলি, এস আলম, হানিফ, ইউনিক ইত্যাদি বাস ছাড়ে কলাবাগান/ফকিরাপুল/ কমলাপুর রেল ষ্টেশনের বিপরীত কাউন্টার থেকে।

>> ঢাকা থেকে চট্টগ্রামঃ
ট্রেনে: এসি সিট ৭৩০ টাকা, এসি বার্থ ১১৬০ টাকা।

নন এসি- সুলভঃ ১৬০/=, শোভন৩২০/=, ১ম সিট ৪২৫/=, ১ম বার্থ ৬৩৫/=, স্নিগ্ধা ৬১০/= (ভাড়া কিছুটা বেড়েছে এখন)

বাস: এসি- ৮০০-১২০০ টাকা। নন এসি- ৪৮০ টাকা। (ভাড়া একটু কম বেশি হতে পারে)

>> চট্টগ্রাম থেকে বান্দরবানঃ
বহদ্দারহাট টার্মিনাল থেকে পূরবী এবং পূর্বাণী নামক দুটি ডাইরেক্ট নন এসি বাস আছে। ৩০ মিঃ পর পর বান্দরবানের উদ্দ্যেশে ছেড়ে যায়।

কোন স্পটে কিভাবে গেলে সুবিধা এবং কত সময় লাগে তার উপর ভিত্তি করে কিছু ট্যুর প্ল্যান দিলাম এখানে- নিজের বাজেট ও সময় অনুসারে কোন একটা বেছে নিতে পারেন ।

ট্যুর প্ল্যান-১ঃ

সময়ঃ এক রাত দুই দিন
বাজেটঃ জনপ্রতি ৪০০০-৪৫০০ টাকা ।
(এক সাথে ৪-৫ জন বা ১০-১২ জন আসলে বেটার ।)
১ম দিন সকালে পৌঁছে ফ্রেশ হয়ে নাশ্তা করে মেঘলা, নিলাচল/ টাইগার হিল, রামজাদি মন্দির এসব দেখতে পারেন।
যদি আপনারা ৭-৮ জন বা ১০-১২ জন হয়ে থাকেন তাহলে একটা জীপ/চান্দের গাড়ি সারা দিনের জন্যে রিজার্ভ নিতে পারেন । ৭ সিটের গাড়ি ১০০০ টাকা আর ১৪ সিটের গাড়ি ১৪০০ টাকা নিবে । শেষ স্পট নীলাচল রাখবেন যাতে বিকেলটা ওখানে কাটানো যায় ।
(একা বা ২-৩ জন হলে সিএনজিতে চড়তে হবে)
রাতে বান্দরবান শহরটা ঘুরে দেখবেন এবং ওখানেই থাকবেন । বান্দরবানে বিভিন্ন মানের হোটেল আছে, যে কোন একটাতে উঠে পড়ুন । ৩০০/৫০০ টাকায়ও সিঙ্গেল রুম পাওয়া যায় ।
২য় দিন একটা জীপ/চান্দের গাড়ি ভাড়া করে চিম্বুক, শৈলপ্রপাত, নীলগিরি ঘুরে আসতে পারেন । চান্দের গাড়িতে সর্বোচ্চ ১২/১৩ জন উঠতে পারবেন, টোটাল ভাড়া নিবে ৩৮০০-৪০০০ ।
আপনার বাজেট যদি একটু বেশি হয় এবং কিছুটা আরামপ্রিয় হয়ে থাকেন তাহলে আপনি ল্যান্ড ক্রুজারে করে যেতে পারেন, একটাতে সর্বোচ্চ ৮ জন উঠতে পারবেন, ভাড়া ৪০০০-৪২০০ টাকা নিবে ।

ট্যুর প্ল্যান-২ঃ

সময়ঃ ২ রাত ৩ দিন
বাজেটঃ ৫০০০-৫৫০০
ট্যুর প্ল্যান ১ এর সাথে আপনি নাফাকুম যোগ করতে পারেন, তবে একটু ভিন্ন উপায়ে ।

সকালে বান্দরবান পৌছে জিপে (চান্দর গাড়ি) করে চিম্বুক পাহাড়, শৈলপ্রপাত ও নীলগিরি দেখে থানচিতে পৌছানো। থানচিতে দুপুরের খাবার খেয়ে একজন গাইড সাথে নিয়ে নৌকা করে তিন্ডু, রাজাপাথর হয়ে রেমাক্রিতে পৌছানো। আদিবাসী রিসোর্টে রাত্রিযাপন।
পরদিন সকালে সূর্যোদয় উপভোগ করে নাফাক্ষুমের উদ্দেশ্যে হাইকিং শুরু। নাফাক্ষুমের সৌন্দর্য উপভোগ করে রেমাক্রিতে ফিরে আসা এবং রাতে আদিবাসী রিসোর্টে রাত্রিযাপন।
এরপরের দিন সকালে নৌকায় করে থানচিতে আসা। থানচি থেকে রিজার্ভ জিপে (চান্দের গাড়ি) করে বান্দরবান। বিকেলে মেঘলা+নীলাচল ঘুরে রাতের খাবার শেষ করে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা

ট্যুর প্ল্যান-৩ঃ

সময়ঃ ২ রাত ৩ দিন
বাজেটঃ ৫০০০-৫৫০০
ট্যুর প্ল্যান ১ এর সাথে আপনি বগালেক যোগ করতে পারেন । ফ্যামিলি নিয়ে গেলে প্রথম দুই প্ল্যানের কোন একটাতে যেতে পারেন, যদি বন্ধু-বান্ধবরা মিলে যান তাহলে এটা ফলো করতে পারেন ।

১ম দিনঃ ঢাকা (রাতে) > বান্দরবান (ভোর) > রুমা বাজার (সকাল ১১টা ) > বগা লেক (দুপুরের মধ্যে )
**বগা লেকে রাত থাকা… …/

২য় দিনঃ বগা লেক থেকে রুমা বাজার ( দুপুর) > বান্দরবন শহর বিকালে নীলাচল টা ঘুরে আসা । রাতে বান্দরবন থাকা … … /

৩য় দিনঃ সকালে উঠে মেঘলা-শৈলপ্রপাত- চিম্বুক-নীলগিরি দেখার জন্যে একটা জীপ বা চান্দের গাড়ি নিয়ে নিবেন ।
ঘুরাঘুরি সাথে জম্পেস খাওয়াদাওয়া … বিকাল এ চট্টগ্রাম … রাতে
ট্রেনে করে হৈ চৈ করতে করতে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা…!!! আপনারা চাইলে সরাসরি বান্দরবান থেকেও বাসে করে ঢাকা ফিরতে পারবেন ।

পোস্টটা শেয়ার করে নিজের টাইমলাইনে রাখুন, পরে কখনো যেতে চাইলে কাজে লাগবে ।

বিঃদ্রঃ কোথাও ঘুরতে গেলে খেয়াল রাখবেন আপনার দ্বারা বা আপনার সাথে যারা যাবে তাদের দ্বারা উক্ত স্থানের কোন ধরণের যেন ক্ষতি না হয়, যে কোন ধরণের উচ্ছিষ্ট (প্যাকেট/বোতল) যেখানে যেখানে না ফেলে সাথে করে নিয়ে আসবেন ।
প্রকৃতির মাঝে আমরা ভ্রমনপ্রিয়রা সৌন্দর্য আহরণ করতে যাই, এটা অবশ্যই খেয়াল রাখা উচিত যে- আমাদের দ্বারা যেন সেই প্রকৃতির সৌন্দর্য বিনষ্ট না হয়

http://traveltune24.com

Add your comment

Your email address will not be published.