নিয়মিত ব্যাংক ঋণ পরিশোধকারীরা পাবেন ১১ বিশেষ সুবিধা! 1

নিয়মিত ব্যাংক ঋণ পরিশোধকারীরা পাবেন ১১ বিশেষ সুবিধা!

নিয়মিত ব্যাংক ঋণ পরিশোধকারীরা কর সুবিধাসহ ১১ ধরনের বিশেষ সুবিধা পাবেন। খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে ব্যাংকিং খাতকে বের করে আনা ও বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের কাছে এই সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।

সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ভালো ঋণগ্রহীতাদের আরও কী ধরনের প্রণোদনা দেওয়া যায় সে বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতামত চায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রবিধি ও নীতি বিভাগ ভালো ঋণগ্রহীতাদের জন্য আর্থিক ও নৈতিক প্রণোদনা দেওয়ার জন্য একটি সার সংক্ষেপ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, যারা ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন তাদের আর্থিক ও নৈতিক দুই ধরনের প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রণোদনা দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোর কাছে ভালো ঋণগ্রহীতাদের তালিকা চাওয়া হবে। সেই তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে একটি নির্দেশিকা দেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যারা ঋণের টাকা ফেরত দেয় না তাদেরকে আমরা ঘৃণা করি। একইভাবে যারা ভালো ঋণগ্রহীতা তাদেরকে আমরা উৎসাহ দিতে চাই। খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি থেকে ব্যাংকিং খাতকে বের করে আনতে নিয়মিত ব্যাংক ঋণ পরিশোধকারীদের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।’

যে ১১ ধরনের বিশেষ সুবিধা পেতে পারেন ভালো ঋণগ্রহীতারা:

১. নতুন ঋণের সুদহার নির্ধারণে বিশেষ সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।

২.বিশেষ কর সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।

৩. নতুন কারখানা স্থাপন করলে গ্যাস, বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের অগ্রাধিকার দেওয়া যেতে পারে।

৪. ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারে বিশেষভাবে রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ডিসকাউন্ট সুবিধা দেওয়া যেতে পারে।

নৈতিক প্রণোদনা:

১. রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিশেষ সম্মাননা পেতে পারে।

২. নাগরিক সুবিধায় অগ্রাধিকার পেতে পারে।

৩. সরকারি পরিবহন ব্যবহারে বিশেষ সুবিধা পেতে পারে।

৪. ব্যাংক কর্তৃক বিশেষ কার্ড দেওয়া যেতে পারে।

৫. সিআইবিতে স্ট্যান্ডার্ড গুড বরোয়ার হিসেবে রিপোর্ট করা যেতে পারে।

৬. ব্যাংক কর্তৃক চিঠি বা এসএমএস পাঠানোর সময় বিশেষ সম্বোধন ব্যবহার।

৭. ভালো ঋণগ্রহীতাদের নিয়ে ব্যাংকের বিশেষ ম্যাগাজিন বা বুকলেট প্রকাশ করা যেতে পারে।

এই প্রস্তাবগুলো উন্নত ঋণ সংস্কৃতি চালুর ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘যেসব গ্রাহক ব্যাংকের টাকা ফেরত দেয় না,তাদেরকে শাস্তির আওতা আনা আগে জরুরি। তবে ভালো ঋণগ্রহীতাদেরকে সরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়া হলে ব্যাংক খাতের জন্য ভালো হবে।’

এ প্রসঙ্গে অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান ও ঢাকা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ভালো ঋণগ্রহীতাদেরকে ধরে রাখার স্বার্থে আমরা সুদ হার কম নির্ধারণসহ কয়েকটি সুবিধা এমনিতেও দিচ্ছি। তাদেরকে সরকার যদি বিভিন্ন ধরনের প্রণোদনা দেয়, সেক্ষেত্রে ব্যাংক খাতের জন্য একটি ইতিবাচক ফল আসবে। তবে যারা ঋণের টাকা ফেরত দেননা তাদেরকে শাস্তির আওতায় নিয়ে আসাও জরুরি।’

এর আগে ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক ভালো ঋণগ্রহীতাদের জন্য সুদে ছাড় দেওয়ার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দেয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ-সংক্রান্ত সার্কুলারে বলা হয়, কোনও ঋণগ্রহীতার ঋণ হিসাব ধারাবাহিকভাবে তিন বছর অশ্রেণিকৃত-স্ট্যান্ডার্ড অবস্থায় থাকলে ও ঋণের মঞ্জুরি বা নবায়নপত্রের শর্ত অনুযায়ী ওই ঋণ হিসাবের লেনদেন সন্তোষজনক হলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহক ভালো ঋণগ্রহীতা হিসেবে বিবেচিত হবেন। এ ধরনের ঋণগ্রহীতা কোনও ঋণ টানা তিন বছর পরিশোধ করলে ওই ঋণ হিসাবে যে পরিমাণ সুদ পরিশোধ হবে, তার ১০ শতাংশ ফেরত পাবেন। এরপর প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে ফেরত পাবেন।

সুত্র : বাংলা ট্রিবিউন

Add your comment

Your email address will not be published.