চুয়াডাঙ্গায় সৌরচালিত পাম্পের আওতায় ১১০০ হেক্টর জমি 1

চুয়াডাঙ্গায় সৌরচালিত পাম্পের আওতায় ১১০০ হেক্টর জমি

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি :

চুয়াডাঙ্গার বিদ্যুৎবিহীন এলাকায় সৌরচালিত ১৮টি গভীর নলকূপ চালু হওয়ায় তিন সহস্রাধিক কৃষক সুলভে সেচের পানি পাচ্ছেন। এতে একদিকে সাশ্রয়, অন্যদিকে সার্বক্ষণিক সেচ সুবিধা নিশ্চিত হলো কৃষকদের।

 

সেচ পাম্পগুলো স্থাপন করেছে ওয়েভ ফাউন্ডেশন নামে একটি বেসরকারি সংস্থা। তাদের আর্থিক সহযোগিতা দিয়েছে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল)।

 

ওয়েভ ফাউন্ডেশনের নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের সমন্বয়কারী কিতাব আলী জানান, চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন মাঠে তারা ১৮টি সৌর বিদ্যুত্চালিত সেচ পাম্প স্থাপন করেছেন। এসব পাম্প থেকে ১ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে সেচ দেয়া সম্ভব। এতে উপকৃত হবেন ৩ হাজার ৮০ জন কৃষক।

 

পাম্পগুলো স্থাপনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি জানান, বিদ্যুৎবিহীন, আর্সেনিকমুক্ত এলাকায় চাষিদের মতামতের ভিত্তিতে পাম্পগুলো স্থাপন করা হয়েছে। প্রতিটি পাম্প স্থাপনের জন্য ১০ কাঠা জমি প্রতি বছর ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা চুক্তিতে লিজ নেয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রতিটি পাম্প স্থাপনে ব্যয় হয়েছে ৬৩ লাখ টাকা। আর চার হাজার ফুট পর্যন্ত চার ফুট মাটির নিচ দিয়ে বসানো হয়েছে পাইপ। ফলে পানি নিতে জমিতে আলাদা নালা করার প্রয়োজন নেই।

 

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের বাজারপাড়ার আব্দুল মমিন সৌর বিদ্যুৎ চালিত পাম্পের আওতায় তিন বিঘা জমি চাষ করেছেন। তিনি বলেন, এ ব্যবস্থার কারণে পানির অপচয় হচ্ছে না। খরচও কম পড়ছে। আগে শ্যালো ইঞ্জিন দিয়ে শুষ্ক মৌসুমে পানি সেচ দিতে বিঘাপ্রতি তার প্রায় ৫ হাজার টাকা ব্যয় হতো, এখন ৩ হাজার টাকায় সেচ দেয়া যাচ্ছে।

 

দামুড়হুদা উপজেলার কাদীপুর গাঙপাড়ার আবু বক্কর (৩২) জানান, তিনি এ উপজেলার সৌর পাম্পের চালক। পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় তার এলাকায় প্রতি বিঘা জমিতে সেচ দিতে ব্যয় হয় ৭-৮ হাজার টাকা। এখন লাগছে মাত্র ৩ হাজার টাকা। অন্যান্য উপজেলার কৃষকরাও একই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।

 

উল্লেখ্য, এনজিও ও বেসরকারি উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে সোলার সেচ পাম্প প্রসারে কাজ করছে ইডকল। এ প্রকল্পে উদ্যোক্তাদের শুধু ১৫ শতাংশ মূলধন থাকতে হয়। বাকি ৮৫ শতাংশ অর্থ সরবরাহ করে ইডকল। এর মধ্যে ৫০ শতাংশ অনুদান এবং ৩৫ শতাংশ ৬ শতাংশ সুদের ১০ বছর মেয়াদি সহজ শর্তের ঋণ।

 

চুয়াডাঙ্গায় ১৮টির পাশাপাশি ঝিনাইদহ জেলায় ২৪টি, কুষ্টিয়া জেলার ঝাউদিয়ায় একটি এবং মেহেরপুর জেলার গাংনী উপজেলায় একটি বিদ্যুৎবিহীন আর্সেনিকমুক্ত এলাকায় পর্যায়ক্রমে ৪৪টি সৌরচালিত গভীর সেচ পাম্প স্থাপন করছে ইডকল।

 

কৃষকদের চাহিদামতো প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত এসব পাম্প চালানো যাবে। সৌরচালিত হওয়ায় রাতে এসব পাম্প বন্ধ থাকবে। প্রচলিত ডিজেল ইঞ্জিন বা বিদ্যুৎ চালিত সেচ পাম্পের চেয়ে সৌর চালিত পাম্প অনেক বেশি সাশ্রয়ী হবে। যেখানে বিদ্যুৎ চালিত গভীর নলকূপে বছরে সেচ খরচ হয় ৮-১০ হাজার টাকা আর ডিজেল ইঞ্জিনচালিত অগভীর নলকূপে খরচ হয় ১০-১২ হাজার টাকা; সেখানে সৌরচালিত গভীর পাম্পের আওতায় প্রতি বছর এক বিঘা জমিতে সেচ খরচ ধরা হয়েছে মাত্র সাড়ে ৪ হাজার টাকা।

 

জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গায় ওয়েভ ফাউন্ডেশন ২০ বছর এসব পাম্প পরিচালনা করবে। মাসিক বেতনের ভিত্তিতে একজন চালক নিয়োজিত থাকবেন।

Add your comment

Your email address will not be published.